মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

এক নজরে আমতলী উপজেলা

আমতলী উপজেলা :নামকরন লোকশ্রুতি আছে যে, সুদূর অতীতকালে পায়রা নদীর তীরে বহু আম গাছ ছিল। মাঝিরা তাদের নৌকা বাঁধত সেই আম গাছের সাথে। নৌকা বাঁধার স্থানটি কালে কালে হয়ে যায় আমতলা থেকে আমতলী। অন্যদিকে, পায়রা নদীর একটি প্রবাহ আমতলী বন্দরের পূর্ব দিক দিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে আমতলী নদী প্রবাহিত হয়েছিল। নৌযান চলাচল মুখরিত আমতলী নদীর তীরে পাঠান আমলে গড়ে ওঠেছিল জনবসতি ও বাণিজ্যিকেন্দ্র। মোগল যুগে পায়রা নদীতে মগ, পর্তুগীজদের লুণ্ঠন ও অত্যাচার বেড়ে গেলে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ আমতলী নদীই ছিল একমাত্র ভরসা। এ নদীর নাম অনুসারে এলাকার নাম হতে পারে আমতলী। আবার, অতীতে আমতলী যখন অরণ্য আচ্ছাদিত হয়ে দুর্গম এলাকা হিসেবে ছিল তখন আরকান থেকে আগত জনৈক আমপাটি নামক মগ দলপতি ইংরেজি সরকার থেকে ইজরা নিয়ে আমতলী প্রথম আবাদ শুরু করে ছিলেন। সম্ভবতঃ আমপারিট মগের নাম অনুসারেও এলকায় নাম আমতলী হতে পারে।

 

অবস্থানঃভৌগোলিকভাবে আমতলী প্রায় ২১০৫১ ও ২২০১৭ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০০০২ ও ৯০০২৩ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। এ উপজেলার উত্তরে পটুয়াখালী সদর, দক্ষিণ পশ্চিমে তালতলী উপজেলা ও বঙ্গোপসাগর, পূর্বে পটুয়াখালীর গলাচিপা ও কলাপাড়া উপজেলা এবং পশ্চিমে বুড়ীশ্বর বা পায়রা নদী। এ নদী বরগুনা জেলা সদর থেকে আমতলীকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে।

 

জলবায়ুঃআমতলীতে ষড়ঋতুর মধ্যে প্রধানত তিনটি মৌসুম জোরালোভাবে পরিলক্ষিত হয়। গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শীত। মার্চ ও এপ্রিল মাস গ্রীষ্মকাল। এ সময় বাতাস খুবই উত্তপ্ত হয় এবং জলীয় বাসেপর পরিমাণ কম থাকে। চরম উষ্ণতায় (এপ্রিল মাসে) তাপমাত্রা ৪১.১০ সেঃ পর্যন্ত হয়। বর্ষা মৌসুম সাধারণত মে হতে অক্টোবর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। শতকরা ৯০% বর্ষণ এ সময়ে হয়। শীতকাল আরম্ভ হয় November আর শেষ হয় ফেব্রুয়ারী মাসে। এ মৌসুম অত্যন্ত শুষ্ক ও শীতল। বৃষ্টিপাতের মাসিক হার ৭৫ মি.লি. কম বলে এ সময়কে শুষ্ক মাস বলা চলে। চরম শীতে তাপমাত্রা ৫.৬০ সেঃ এ নেমে আসে।

 

ভূ-প্রকৃতিঃআমতলী উপজেলার ভূ-প্রকৃতি প্রায় সমতল কটাল পললভূমি দিয়ে গঠিত এবং এ এলাকা বর্ষাকালে সল্পগভীরভাবে প্লাবিত হয়। এখানে নদীর পার্শ্ববর্তী সংকীর্ণ ডাঙ্গ জমি অপেক্ষাকৃত উঁচু ও দোঁ-আশ জাতীয় পলি দিয়ে গঠিত এবং পার্শ্ববর্তী প্রায় সমতল বিল জমি অপেক্ষাকৃত নীচু ও এটেল পলি দিয়ে গঠিত। এ পলল ভূমির সমূদয় পলি গঙ্গা নদীর উতস হতে আগত। আমতলীর লোকচরিত্রঃ আমতলী উপজেলায় আয়তনের অনুপাতে জনসংখ্যার পরিমাণ কম। ফলে এক একটি বাড়ী বেশ খোলামেলা জায়গা নিয়ে তৈরী হয়। শহর ও গঞ্জের চিত্র ভিন্ন হলেও সাধারণত গ্রামে এ চিত্রই চোখে পড়ে। অধিকাংশ পরিবার অনেক ভুমি নিয়ে বসবাস করেন। ঘন গাছ-পালা আচ্ছাদিত ও পরিখাবেষ্টিত এসব বাড়ী সাধারণত বিচ্ছ্‌িন অবস্থায় থাকে। প্রতিটি পরিবারের মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধ ও সাতনত্র্যবোধ পরিলক্ষিত হয়। কিছু ব্যতিক্রম চাড়া বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে এদের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থান প্রবণতার অভাব দেখা যায়। আমতলীর লোকচরিত্র অনেক ভদ্র, ও পরিশীলিত। তাঁরা অতিথিপরায়ণ, নম্র এবং ইতিবাচক মানসিকতার অধিকারী।

 

ভূ-প্রকৃতিঃ আমতলী থানার ভূ-প্রকৃতি প্রায় সমতল কটাল পললভূমি দিয়ে গঠিত এবং এ এলাকা বর্ষাকালে সল্পগভীরভাবে প্লাবিত হয়। এখানে নদীর পার্শ্ববর্তী সংকীর্ণ ডাঙ্গ জমি অপেক্ষাকৃত উঁচু ও দোঁ-আশ জাতীয় পলি দিয়ে গঠিত এবং পার্শ্ববর্তী প্রায় সমতল বিল জমি অপেক্ষাকৃত নীচু ও এটেল পলি দিয়ে গঠিত। এ পলল ভূমির সমূদয় পলি গঙ্গা নদীর উৎস হতে আগত।

 

আমতলীর নদ-নদীঃ ১) পায়রা/বুড়ীশ্বর নদী ২) আন্ধারমানিক নদী ৩) গুলিশাখালী নদী ৪) কুকুয়া নদী ৫) চাওড়া নদী ৬) আমতলী নদী ৭) টিয়াখালী নদী ৮) আড়াপাঙ্গাশিয়া নদী ৯) কচুপাত্রা দোন ১০) বড় বগীর খাল ১১) বগীর দোন।

 

কৃষিঃএখানকার কৃষি ব্যবস্থা মান্ধাতা আমলের। বর্তমানে কিছুক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু হয়েছে। আমতলী উপজেলায় মোট কৃষি পরিবারঃ ৪৭,৪০৩ আছে নীট ফসলী জমিঃ ৩৮,৫০০ হেক্টর। খাদ্যশস্য উতপাদনঃ৬৭২৮৭ মেট্রিক টন।

 

প্রধান ফসলঃ ধান, খৈসারী, মুশুরী, মুগ, আলু, মরিচ, কুমড়া, তরমুজ, ইত্যাদি।

 

শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানঃ ডিগ্রী বলেজঃ ৩টি ।

 

উচ্চ মাধ্যমিক কলেজঃ ৪টি।

 

কারিগরী কলেজঃ ১টি ।

 

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ঃ ৩৪টি ।

 

জুনিয়ার বিদ্যালয়ঃ ৩২টি ।

 

সিনিয়র মাদ্রাসাঃ ৪টি।

 

আলিম মাদ্রাসাঃ ৬টি ।

 

দাখিল মাদ্রাসাঃ৩০টি ।

 

সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ঃ ১০১টি ।

 

বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ঃ ৯৯টি ।

 

কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ঃ ১৬টি ।

 

এবদেতায়ী মাদ্রাসাঃ ৪৩টি ।

 

ধর্ম বিশ্বাসঃ আমতলীতে মুসলিম, হিন্দু এবং বৌদ্ধ সমপ্রদায়ের লোকের বসবাস।

 

মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। মুসলমান সমপ্রদায় ধর্মভীরু, নিরাকারবাদী ও পরলোকে আস্থাশীল। হিন্দুগণ সাকারবাদী এবং কোন না কোন দেব দেবীর উপাসক।